মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সিলেট সদর উপজেলার পটভূমি

সাধক পুরুষ হযরত শাহজালাল (র:) ইয়ামেনী এর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সাধক পুরুষ হযরত শাহপরান (র:) এর পদস্পর্শে ধন্য, চা- বাগান আর ছোট ছোট টিলা-পাহাড়, হাওর-বাওর তথা নৈসর্গিক অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট জেলাধীন অন্যতম সদর উপজেলা। বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী এবং প্রাচীন এই জনপদের রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস। জাতীয় পর্যায়ের উদ্যানসহ প্রাচীনতম চা-বাগান আর ছোট ছোট পাহাড়/টিলা এবং হযরত শাহপরান (র:) এর মাজার, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিশেষায়িত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সহ আরো নানা কারণে সিলেট সদর উপজেলা দেশে বিশিষ্ট অভিধায় অভিহিতহয়ে এর আকর্ষণ সারাদেশ জুড়ে। এই জনপদের বুক চিরে বয়ে গেছে সুরমা, সারি, চেঙেরখাল প্রভৃতি নদী।


সিলেট সদর উপজেলার দূর অতীতের ইতিহাস দুষ্প্রাপ্য। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রাচীনযুগে শ্রীহট্ট নামে একটি একটি পৃথক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিলো। কিছু কালের জন্য এ এলাকাটি ‘হরিকেল’ নামেও পরিচিত ছিলো। সপ্তম শতাব্দিতে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ভারত ভ্রমণের সময় সাগর তীরে অবস্থিত এ এলাকাটিকে ‘শিলিচট্টল’ বলে উল্লেখ করেছেন। দশম শতাব্দিতে বাংলায় চন্দ্র বংশের রাজত্বকালে রাজা রীচন্দ্রের অধীনে শ্রীহট্টম-ল নামে প্রশাসনিক বিভাগ গড়ে উঠেছিলো যা সামন্ত রাজাদের দ্বারা পরিচালিত হতো। ইতিহাসবিদদের ধারণা এই শ্রীহট্ট ম-ল থেকেই কালক্রমে শ্রীহট্ট বা সিলহেট এবং পরিশেষে ‘সিলেট’ নামের উৎপত্তি।


৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতাব্দির মধ্যে এখানে মানুষের বসবাস বাড়তে থাকে এবং এ সময় এই এলাকায় একটি সভ্যতা গড়ে ওঠার প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৩০৩ খ্রিষ্ঠাব্দে হযরত শাহজালাল (র:) কর্তৃক গৌড় গোবিন্দ রাজাকে পরাজিত করে সিলেট বিজয়ের পর সিলেট মুসলমান সুলতানদের অধীনে চলে যায়। ১৭৭২ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী আমলে এটা সদরে রূপান্তরিত হয়।


১৮৭৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত সিলেট ছিলো ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। ১৮৭৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সিলেটকে নবসৃষ্ট আসাম প্রদেশের সাথে সংযুক্ত করা হয়। ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত সিলেট আসামেরই একটি জেলা হিসেবে ছিলো। পাকিস্তান সৃষ্টির পর গণভোটের মাধ্যমে সিলেট পূর্ব পাকিস্তানের একটি জেলায় পরিণত হয়। পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীন বাংলাদেশেও ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত সিলেট জেলা ৪টি মহকুমায় বিভক্ত ছিলো। মহকুমাগুলো হলো: সিলেট সদর, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ। ১৯৮৪ সালে বৃহত্তর সিলেটের উক্ত মহকুমাগুলো জেলায় উন্নীত হয়। পুনগর্ঠিত সিলেট জেলায় তখন ১১টি থানা (প্রশাসনিক ইউনিট অর্থে, পুলিশ ষ্টেশন অর্থে নয়) ছিলো। প্রতিটি প্রশাসনিক থানায় প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে সরকারী উন্নয়ন কার্যক্রম তদারক, সমন্বয় ও বাস্তবায়ন করতেন সার্কেল অফিসার (উন্নয়ন)।
১৯৮২ সালে সকল প্রশাসনিক থানাকে ‘মানোন্নীত’ করে করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালে সরকার উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন পুনর্গঠন অধ্যাদেশবলে সকল প্রশাসনিক থানাকে (মানোন্নীত থানা) ‘উপজেলা’ নামকরণ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ১৯৮৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ‘সিলেট সদর’ থানা ‘সিলেট সদর’ উপজেলা হিসেবে নামান্তরিত হয়।


২০০৫ সালের শেষেরদিকে সিলেট সদর উপজেলা থেকে দক্ষিণ সুরমা নামে নতুন উপজেলার সৃষ্টি হয়। এটি মূলত সিলেট সদর উপজেলার সুরমা নদীর দক্ষিণ পারের ইউনিয়নসমূহ নিয়ে গঠিত হয়। সাবেক সিলেট সদর উপজেলা থেকে ‘দক্ষিণ সুরমা’ নামে নতুন উপজেলা এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকা বাদ দিলেও বর্তমানে আটটি ইউনিয়ন নিয়ে সিলেট সদর উপজেলা গঠিত। সিলেট বিভাগের বিভাগীয় সদরের উপজেলা হিসেবে সিলেট সদর উপজেলার আলাদা একটি ঐতিহ্য ও মর্যাদা বিদ্যমান।


 সিলেট সদর উপজেলা সুরমা নদীর উত্তর পারের বিস্তৃত এলাকা এবং দক্ষিণ পারের কিছু ভূ-ভাগ নিয়ে গঠিত। উপজেলা পরিষদের সদর দপ্তর তথা প্রশাসনিক হেডকোয়ার্টার সুরমা নদীর উত্তর পারে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পার্শ্বে এবং হযরত শাহ্্ পরাণ (র.) মাজারের বিপরীতে অবস্থিত।

 

উপজেলার অবস্থান : উত্তরে কোম্পানীগঞ্জ এবং গোয়াইনঘাট উপজেলা পূর্বে গোলাপগঞ্জ এবং কানাইঘাট উপজেলা দক্ষিণে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পশ্চিমে বিশ্বনাথ উপজেলা ও সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলা।

 

       

 

ছবি


সংযুক্তি