মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলার ঐতিহ্য

সিলেট সদর উপজেলার উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থান, নিদর্শন ও পুরাকীর্তি :

 

সিলেটের ঐতিহাসিক নিদর্শনের অধিকাংশই কালের আবর্তে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত যে সব ধ্বংসাবশেষের অস্তিত্ব বিদ্যমান রয়েছে তার মধ্যেই এখানকার বিগত দিনের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি উপলব্ধি করা যায়। যুগে যুগে বহু শাসক, রাজা ও সুলতানও এ অঞ্চল শাসন করেছেন এবং তাদের অতীত স্মৃতি বিধৃত হয়ে আছে তাঁদের রচিত দূর্গ, প্রাসাদ, সমাধি, স্মৃতিসৌধ, মন্দির, মসজিদ ইত্যাদির মধ্যে যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে তুলে ধরা হলো :

 

১। হজরত শাহ্ জালাল (র.)-এর দরগাহ্ কমপ্লেক্স :

 

বিশ্বখ্যাত  ধর্ম প্রচারক ও সুফী সাধক  হজরত শাহ্ জালাল (র.) -এর মাজার সিলেট শহরের  এক অনবদ্য পুরাকীর্তি এবং দর্শনীয় স্থান। ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে হজরত শাহ্ জালাল (র.) সিলেটে আসেন। সিলেট শহরের উত্তর দিকে একটি অনুচ্চ পাহাড়ের ওপর তাঁর মাজার অবস্থিত। সমাধি সৌধগুলোর মধ্যে নিঃসন্দেহে এটি সর্বাধিক গুরুত্বের অধিকারী। এ দরগার প্রবেশ পথের ওপরে একটি শিলালিপি রয়েছে যাতে উৎকীর্ণ করা আছে যে, খালিস খান ৯১১ হিজরীতে (১৫০৫ খ্রিষ্টাব্দ) সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের আমলে এই পবিত্র ইমরাত নির্মাণ করেন। এখানকার মসজিদটি ১৫৩১ খ্রিষ্টাব্দে তৈরি। প্রতি বছর জিলক্বদ মাসের ১৯ ও ২০ তারিখে পালন করা হয় হজরত শাহ্ জালাল (র.)-এর ওরস মোবারক। এ ছাড়াও সারা বছর ধরে দেশ বিদেশের পর্যটকগণ এ মাজার পরিদর্শনে আসেন এবং জাতিধর্মবর্ণনির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষ তাদের হৃদয় নিংড়ানো ভক্তি ও শ্রদ্ধা এই মহামানবের পুণ্য স্মৃতির উদ্দেশ্যে উজাড় করে দিয়ে নিজেদের কৃতার্থ মনে করেন। অনেক মনোবাঞ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যে নিবেদন করেন মানত ও দান ইত্যাদি।

২। হজরত শাহ্ পরাণ (র.)-এর মসজিদ ও দরগাহ্ :

তাপসকূল শিরোমণি হজরত শাহ্ পরাণ (র.) শায়িত আছেন সিলেটের খাদিম পাড়ায়। সিলেট শহরের প্রায় ৮ কি: মি: পূর্ব দিকে সিলেট-তামাবিল সড়ক থেকে প্রায় ০.৩  কি: মি:   ভিতরে     সু-উচ্চ ও মনোরম টিলায় অবস্থিত হজরত শাহ্ পরাণ (র.)-এর মসজিদ ও দরগাহ্। মসজিদের পূর্ব দিকে রয়েছে সমাধিটি।

 

শাহ্ পরাণ মসজিদটি আয়তকার তিন গম্বুজবিশিষ্ট এবং এর দেয়াল চার ফুট চওড়া, মসজিদটির বহির্ভাগে চার কোণে চারটি অর্ধগোলাকৃতির পার্শ্ব বুরুজ রয়েছে। এ মসজিদটির শিলালিপি ভিত্তিক নির্মাণকাল পাওয়া যায়নি। তবে সপ্তদশ শতাব্দীতে এটি নির্মিত বলে অনুমিত। অতিসম্প্রতি জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর নির্দেশনায় মহিলাদের জন্য নির্মিত হয়েছে ‘মহিলা এবাদতখানা’।

 

৩। শাহী ঈদগাহ্ :

 

সিলেট শহরের  উত্তর -পূর্ব  প্রান্তে পাহাড়ের কোল ঘেষে অবস্থিত ঐতিহাসিক  শাহী  ঈদগাহ্ মাঠ। ঈদগাহ্ প্রাঙ্গনের চারিদিক প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত। এটি সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ্ মাঠ। সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত এটি সিলেটের প্রাচীন ঐতিহ্যের এক নিদর্শন। সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে তদানীন্তন সিলেটের ফৌজদার ফরহাদ খাঁর উদ্যোগে এটি নির্মিত হয়। ঈদগাহে রয়েছে ২২টি সিঁড়ি।

 

 

 

 

৪। শাহ্ আবু তোরাবের মসজিদ :

 

এটি সিলেট জেলখানার দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। শাহ্ আবু তোরাব ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে এটি নির্মাণ করেন। মসজিদটি একটি বর্গাকার চত্বরের ওপর স্থাপিত এবং তিন গম্বুজ বিশিষ্ট।

 

 

 

৫। ক্বীন ব্রীজ :

 

সিলেট  মিউনিসিপ্যালিটি  কমিটি  ১৮৮৫ সালে গঠিত হয়। এ কমিটির  সুপারিশের  ভিত্তিতে ১৯৩৭ সালে সুরমা নদীর উপর লোহার সেতু তৈরি করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৫৬ লক্ষ টাকা। আসাম প্রদেশের তৎকালীন গভর্ণর মাইকেল ক্বীন-এর নাম অনুসারে এ সেতুর নামকরণ করা হয় ক্বীন ব্রীজ

 

 

৬। আমির ফরহাদ খানের সেতু :

 

সিলেট শহরের পূর্ব প্রান্তে গোয়ালিছড়া নামক স্থানে প্রধান সড়কের ওপরে ফরহাদ খানের সেতুটি অবস্থিত। এ পাকা সেতুটি একটি খিলানের উপর নির্মিত। ব্রিটিশ আমলে এটি সংস্কার করা হয়।

 

৭। নিম্বার্ক আশ্রম :

 

এটি শহরের মির্জাজাঙ্গালে অবস্থিত। এটি সিলেটের একটি প্রাচীন ও সুপরিচিত ধর্মীয় কেন্দ্র।

 

৮। আলী আমজাদের ঘড়ি :

জমিদার আলী আমজাদের ঘড়ি। এটি ১৮৯৮ সালে কুলাউড়ার জমিদার আলী আমজাদ খান কর্তৃক বর্তমান সার্কিট হাউজ ও ক্বীন ব্রীজের পাশে নির্মিত হয়। খড়ৎফ ঞৎধঃিয এৎড়ড়শব  -এর সিলেট আগমন উপলক্ষে এটি নির্মিত হয়।

 

৯। শ্রী শ্রী মহাপ্রভূ জিউর আখড়া :

 

এটি লামাবাজারে অবস্থিত। মন্দিরের আদি ভবনটি বর্তমানে বিদ্যমান নেই। এটি অষ্টাদশ শতাব্দীতে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়।

 

 

 

১০। যুগল টিলা :

 

যুগল টিলা এটি সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এ ধর্মীয় কেন্দ্রটি চারদিকে পরিখা বেষ্টিত একটি টিলার উপর অবস্থিত। কেন্দ্রীয় মন্দির ভবনটিতে পৌঁছাতে বহু ধাপযুক্ত সিঁড়িপথ দিয়ে অগ্রসর হতে হয়।

 

১১। থ্যাকারে বাংলো :

 

সিলেটের প্রথম কালেক্টর উইলিয়াম ম্যাকপীস থ্যাকারের বসবাসের উদ্দেশ্যে টিলার উপর এ বাংলো তৈরি করা হয় ১৭৭২-৭৫ সালের দিকে। যে টিলার উপর বাংলোটি অবস্থিত তাকে থ্যাকারে টিলা বলে। এটি বর্তমানে এম. সি কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবন হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

১২। ওসমানী স্মৃতি জাদুঘর :

 

১৯৮৭ সনে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের শাখা হিসেবে এটি চালু আছে। এ জাদুঘরটিতে তিনটি গ্যালারী রয়েছে, যেখানে জেনারেল ওসমানীর জামা-কাপড়, আসবাব-পত্র, তৈজষ-পত্র, ছবি, বই, পদক, প্রতিকৃতি, মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত ম্যাপ এবং তাঁর জীবন ও কর্মকাণ্ডের স্মৃতি বিজড়িত অন্যান্য নিদর্শনাদি প্রদর্শিত হয়েছে।

 

১৩। হজরত মানিক পীর (র.) টিলা :

হযরত শাহ্ জালাল (র.)-এর সঙ্গীয় ৩৬০ জন আউলিয়ার, পীরের অন্যতম ছিলেন হজরত মানিকপীর। নগরীর কুমারপাড়া ও নয়াসড়কের ক্রসিং-এর মাঝামাঝি অবস্থানে একটি অনুচ্চটিলার উপর হজরত মানিক পীর (র.)-এর মাজার শরীফ অবস্থিত। তাঁর নামানুসারে এ টিলাটি “মানিকপীর টিলা” নামে বহুল পরিচিত। বর্তমানে গোরস্থান হিসাবে ব্যবহৃত এ টিলাটি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে। সাম্প্রতিককালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব এম. সাইফুর রহমানের নির্দেশনায় হজরত শাহ্ জালাল (র.) ও হজরত শাহ্ পরাণ (র.)-এর মাজারের ন্যায় এ মাজারেও ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। জেলা পরিষদ, সিলেট-এর অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে এ মাজারের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

 

১৪। হজরত সৈয়দ চাশনী পীর (র.) এর মাজার :

ইয়েমেনে জন্মগ্রহণকারী হজরত শাহ্ জালাল (র.) ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে  মক্কা হতে এ ভূ-খন্ডে আসেন। তাঁর সঙ্গী ছিলেন ৩৬০ জন আউলিয়া পীর। তাঁদের অন্যতম হলেন এই হজরত সৈয়দ চাশনী পীর (র.)। তিনি ভূ-তত্ত্ববিদ এবং মৃত্তিকাবিজ্ঞানী হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। কথিত আছে যে, হজরত শাহ্ জালাল (র.) মক্কা হতে আসার সময় তাঁর মামা ও দীক্ষা গুরু হজরত সৈয়দ আহ্মদ কবির (র.) তাঁকে এক মুঠো মাটি দিয়ে যে এলাকার মাটির সাথে এ মাটি মিল পাওয়া যাবে সেখানে অবস্থান করে ইসলাম প্রচার করার জন্য বলেছিলেন। এ মাটি তিনি সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন। হজরত চাশনী পীর (র.) পরীক্ষা করে সিলেটের এলাকার মাটির সাথে উক্ত মাটির সামঞ্জস্য পেয়েছিলেন। এর ফলে তাঁরা এ অঞ্চলে অবস্থান করে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।

 

১৫। বিখ্যাত ষাড়ের লড়াই:

সিলেট সদর উপজেলার কান্দি গাঁও গ্রামে প্রতি বছর ষাড়ের লড়াই আয়োজন করা হয়। এতে পুরো এলাকাসহ আসপাশের অনেক এলাকার লোকজন অত্যন্ত মনোমুগদ্ধকর ভাবে এই ষাড়ের লড়াই দেখে থাকেন । এটি এলাকার মানুষের জন্য অনেক বড় একটি মিলন মেলা।

 

১৬। চা বাগান:

 

আমাদের ভীষণ কর্মব্যস্ত জীবনের কিছুটা অবসর মুহুর্তে যেতে পারি বাংলাদেশের প্রাচীন চা বাগান মালনীছড়ায়। সিলেট শহর থেকে উত্তর দিকে বিমান বন্দর সড়কের পাশেই ১৮৫৪ সালে মালনীছড়া চা বাগানটি যাত্রা শুরু করে। দেড় শতাব্দীর মালনীছড়া বহু ইংরেজ, পাকিস্তানী এবং বাংলাদেশী ব্যবস্থাপকের হাত ঘুরে ১৯৮৮ সালে শিল্পপতি রাগীব আলীর মালিকানায় নিবন্ধিত হয়। প্রায় আড়াই হাজার একর ভূমিস্বত্ব সীমানায় উঁচু-নিচু সবুজ টিলার সমারোহ মালনীছড়া চা বাগানটি বেষ্টিত। চা আবাদের জন্য একহাজার দুইশত একর জমি, রাবার আবাদের জন্য সাতশত একর জমি এবং কারখানা, আবাসন, বৃক্ষরাজি, বনজঙ্গল জুড়ে আছে বাকী জমিটুকু। ভ্রমণ পিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে ‘এসো বন্ধু আমার সবুজ ছায়ায় এসো-এক সাথে আনন্দ উল্লাস করি।

মেঘকন্যার আগমনে সবুজ চায়ের বাগান: দূর মেঘালয় থেকে হিমবাতাস বয়ে নিয়ে আসে অতিথি মেঘকন্যাকে। তারপর চা বাগানের আকাশ সাজে শুভ্র মেঘমালায়। এক সময় মেঘকন্যা বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে নরম কচি চা পাতার উপর। বৃষ্টির পরশে চায়ের পাতার রং বদলায়। বর্ষায় দুটি পাতা একটি কুঁড়ি তোলার উপযুক্ত সময়। অর্থাৎ মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চা এর মৌসুম। জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি এ দুমাসে চা প্লাকিং করা হয় না। কারণ শীতকালে অতিরিক্ত ঠান্ডায় চা পাতার কুঁড়ি বৃদ্ধি পায় না। চা গাছের সব পাতায় কিন্তু চা হয় না। শুধুমাত্র দুটি পাতা এবং একটি কুঁড়ি হলো চা এর মূল উৎস। দুটি পাতা থেকে আসে লিকার এবং কুঁড়ি থেকে আসে ফ্লেবার। চা বাগান মানেই দিগন্ত প্রসারী সবুজের মাঝে ছায়াবৃক্ষের মিলন মেলা। নির্ভীক যাত্রী আপনি, অপলক তাকিয়ে থাকবেন চা বাগানের পাশ দিয়ে বয়ে চলা স্বচ্ছ ঝর্ণার পানে। ছোট ছোট টিলায় ভুটান ফুলে হারিয়ে যাবে মন অনাবিল আনন্দে। হঠাৎ আপনি চমকে উঠবেন যখন ঝর্ণার জলে স্পর্শ পাবেন গাড় সুবজ শৈবালের। কখনও গভীর অরণ্যে উপলব্ধি করতে পারবেন আলো ছায়ায় মায়াময় লুকোচুরি খেলা। মালনীছড়ায় আছে কমলা বাগান, কাঁঠাল বাগান, সুপারি বাগান। আরো দেখবেন গুল মরিচের লতানো গাছ, ট্যাং ফল, আগর, চন্দনসহ অনেক ঔষধি-শোভা বর্ধক বৃক্ষ। উঁচু-নিচু টিলায় ঘুরে বেড়াতে পারেন। এর মাঝেই দেখা হয়ে যেতে পারে সবুজ টিয়া অথবা শালিকের উচ্ছ্বল নৃত্য। উঁচু টিলায় আছে শিব মন্দির। পরিচিত হবেন মানীছড়া রাবার প্রকল্পের সাথে। কিভাবে চাপাতা প্রক্রিয়াজাত করণ এবং রাবার উৎপাদন হয় তারও একটি বাস্তব চিত্র আপনি দেখতে পাবেন। কোম্পানী বাংলোতে আছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ। বাংলো চত্ত্বর পরিপূর্ণ দেশী-বিদেশী ফুল আর বিরল প্রজাতির ক্যাকটাসে। প্যারাডাইস ফুল দেখে আপনি মুগ্ধ হবেন।

প্রাচীনের ছোঁয়া: ‘মালনীছড়া চাবাগান’ ইতিহাসের অংশ। সেই অমৃত ইতিহাস পরিদর্শনে আপনি পাবেন শতাব্দীর অনেক পেছনের বাস-বতার স্পর্শ। মালনীছড়ায় এখনও সেই ইতিহাসের কিছু নিদর্শন পরিপাটি করে সাজানো আছে।

জটকোণা পাহাড় (যেখানে গাছের শিকড় থেকে বিন্দু বিন্দু পানি ঝরে পড়ছে টিলার নীচের বালুময় স্থানে) আবাদানী পাহাড়, হারুং হুড়ুং গুহা (হযরত শাহজালাল (রা:) এর কাছে পরাজিত হয়ে রাজা গৌর গোবিন্দ এ পাহাড়ের মধ্যে সৃষ্ট দুটো গুহাপথ দিয়ে পলায়ন করেন। আজও গুহা দুটি কালের সাক্ষি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।)

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত চা বাগান মালনীছড়া। ১৯৭১ সালে চা বাগানের দায়িত্বে ছিলেন শওকত শাহনেয়াজ। পাক আর্মিরা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে অফিস থেকে তাকে ধরে নিয়ে যায়। বাংলার পাশ্ববর্তী এলাকায় তিনি শহীদ হন। তার স্মৃতি রক্ষার জন্য একটি স্মৃতিসৌধ নির্মান করা হয়েছে।

চা শ্রমিকের জীবন প্রণালী: ভোরের চা বাগান নিরব; নিরব কোয়াটার্স, নিরব শ্রমিক আবাস। হঠাৎ বাতাসের ছোঁয়া পেলে চা পাতা একটু কেঁপে অনুভূতি প্রকাশ করে। তারপর আবার ঘুমিয়ে পড়ে। রৌদ্রস্নাত দুপুরের নিস্তব্ধতায় শোনা যায় চা পাতা তোলার শব্দ। কখনো হালকা গানের সুর আবার কখনো চুপিচুপি কথা বলার অনুরাগের এক মুহুর্ত। মধ্য দুপুরে চাপাতা ওজন দিয়ে জমা দেওয়া হয়। তারপর মধ্যাহ্নের খাবার খেয়ে কিছু সময় বিশ্রাম নেয়। খাবার বলতে লবন মিশ্রিত ঠান্ডা চা এবং রুটি। বিশ্রাম শেষে শুরু হয় ২য় দফা কাজ। রোদ, অসহ্য গরম আর বৃষ্টি উপেক্ষা করেই তাদের কাজ করতে হয়। দুপুরের অবসরে সংগৃহীত ঘাস, কচুরলতি, ঢেঁকিশাক ইত্যাদি বনজ উপকরণ নিয়ে অপরাহ্নে তারা বাড়ি ফিরে। সবাই জানে চা শ্রমিকরা উৎসব প্রিয়। সবচেয়ে বড় পার্বন হচ্ছে, হোলি খেলা বা দোল উৎসব। এ সময় বাগান তিনদিনের ছুটি থাকে। মাদলের তালে তালে লাঠি নৃত্য আর ঝুমুর গানে মুখরিত হয় শ্রমিক পল্লী। এছাড়াও গ্রাম পূজা, টুসুপূজা, দূর্গা পূজা চা বাগানের উৎসবের আওতায় পরে।

কিভাবে যাবেন : সিলেট-বিমান বন্দর সড়কের পাশেই মালনীছড়া চা বাগানের অবস্থান। মালনীছড়ায় বেড়াতে এলে থাকার জন্য কোন সমস্যায় পড়তে হবে না আপনাকে। কারণ এর পাশাপাশি রয়েছে অত্যাধুনিক একটি হোটেল ও মোটেল। আরো কাছে রয়েছে একটি রেষ্ট হাউজ (লাক্কাতুরা চা বাগানে এর অবস্থান)। মালনীছড়া চা বাগানের একেবারেই শেষ সীমানায় ওসমানী বিমান বন্দরের পাশেই সিলেট পর্যটন মোটেলের অবস্থান। এখানে নন এসি কক্ষ ৫৭৫ টাকা, এসি ১৩৮০ টাকা।

পরন্ত বিকেলে বাড়ি ফেরা: মালনীছড়া চা বাগান থেকে ফেরার পথে লাক্কাতুরা চা বাগান এবং লাক্কাতুরা গল্ফ ক্লাব একটু সময় অবস্থান করতে পারেন। এখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করে বিদায় জানাতে পারবেন সূর্যকে। নীরবে উপভোগ করবেন এর সৌন্দর্য। যা কিছু ভাল, যা কিছু সুন্দর আমরা তাই বেছে নেব। এ কারণেই শব্দহীন নিরাপদ এই চা বাগানে আনন্দ উল্লাস করে একটি সুন্দর দিন কাটিয়ে দিতে পারি। যান্ত্রিক নগরীতে ডুবে যাওয়া মন তখন ভরে উঠবে সবুজের ছোঁয়ায়, ভালবাসার পরশে।

১৭। গোড় দৌড় প্রতিযোগীতা:

 

সিলেট সদর উপজেলার মোগল গাঁও গ্রামের লোকজন প্রতি বছর গোড় দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকেন। উল্লেখিত প্রতিযোগিতা আগত লোকজন বিভিন্ন এলাকার গোড়া সমৃদ্ধ গৌড় দৌড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।

ছবি


সংযুক্তি