মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

এক নজরে সিলেট সদর উপজেলা

ক্রম

    নাম

বিবরণ

উপজেলার উৎপত্তি, নামকরণ ও উপজেলা

 

সৃষ্টির সংক্ষিপ্ত বিবরণ :

 

সুরমা নদীর তীরে গড়ে ওঠা সিলেট সদর উপজেলার দূর অতীতের ইতিহাস নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী প্রাচীন যুগে শ্রীহট্ট নামে একটি পৃথক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব ছিল এবং কিছু কালের জন্য এ এলাকাটি ‘হরিকেল’ নামেও পরিচিত ছিল। সপ্তম শতাব্দীতে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং ভারত ভ্রমণের সময় সাগর তীরে অবস্থিত এ এলাকাটিকে ‘শিলিচট্রল’ বলে উল্লেখ করেছেন। দশম শতাব্দীতে বাংলায় চন্দ্র বংশের রাজত্বকালে রাজা শ্রীচন্দ্রের অধীনে শ্রীহট্টমন্ডল নামে প্রশাসনিক বিভাগ গড়ে উঠেছিল যা সামন্ত রাজাদের দ্বারা শাসিত হতো। ইতিহাসবিদদের ধারণা এই শ্রীহট্ট মন্ডল থেকেই কালক্রমে শ্রীহট্ট বা সিলহেট (ঝুষযবঃ) এবং পরিশেষে ‘সিলেট’ নামের উৎপত্তি হয়েছে।

ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে এখানে মানুষের বসবাস বাড়তে থাকে এবং এ সময় এ এলাকায় একটি সভ্যতা গড়ে ওঠার প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে হজরত শাহ্ জালাল (র.) কর্তৃক গৌড় গোবিন্দকে পরাজিত করে সিলেট বিজয়ের পর সিলেট মুসলমান সুলতানদের অধীনে চলে আসে। ১৭৭২ সালে কোম্পানি আমলে এটা সদরে রূপান্তরিত হয়।

১৮৭৪ সালের পূর্ব পর্যন্ত সিলেট ছিল ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। ১৮৭৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সিলেটকে নবসৃষ্ট আসাম প্রদেশের সাথে সংযুক্ত করা হয়। ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত সিলেট আসামেরই একটি জেলা হিসেবে থেকে যায়। পাকিস্তান সৃষ্টির পর সিলেট পূর্ব পাকিস্তানের একটি জেলায় পরিণত হয়। পাকিস্তান আমলে সিলেট ৪টি মহকুমায় বিভক্ত ছিল, যথা : সদর, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ।

স্বাধীনতার পর ১৯৮৪ সালে বৃহত্তর সিলেট জেলার উক্ত ৪টি মহকুমা জেলায় উন্নীত হয়। এবং পুনর্গঠিত হয় সিলেট জেলা। পুনর্গঠিত সিলেট জেলায় তখন ১১ টি থানা (প্রশাসনিক ইউনিট অর্থে, পুলিশ স্টেশন অর্থে নয়) ছিল। বলা বাহুল্য যে প্রতিটি প্রশাসনিক থানায় প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রম তদারক, সমন্বয় ও বাস্তবায়ন করতেন সার্কেল অফিসার (উন্নয়ন)।

১৯৮২ সালে সকল প্রশাসনিক থানাকে ‘মানোন্নীত’ (টঢ়মৎধফবফ ঞযধহধ) করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সনের স্থানীয় সরকার (উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন পুনর্গঠন) অধ্যাদেশবলে সকল প্রশাসনিক থানাকে (মানোন্নীত থানা) ‘উপজেলা’ নামকরণ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় ১৯৮৩ সালের ১২ ডিসেম্বর তারিখে ‘সিলেট সদর থানা’ ‘সিলেট সদর উপজেলা’ হিসাবে নামান্তরিত হয়।

 

০২

সিলেট সদর উপজেলার উল্লেখযোগ্য

 

ঐতিহাসিক স্থান, নিদর্শন ও পুরাকীর্তি ।

১। হজরত শাহ্ জালাল (র.)-এর দরগাহ্ কমপ্লেক্স :

 

বিশ্বখ্যাত  ধর্ম প্রচারক ও সুফী সাধক  হজরত শাহ্ জালাল (র.) -এর মাজার সিলেট শহরের  এক অনবদ্য পুরাকীর্তি এবং দর্শনীয় স্থান। ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে হজরত শাহ্ জালাল (র.) সিলেটে আসেন। সিলেট শহরের উত্তর দিকে একটি অনুচ্চ পাহাড়ের ওপর তাঁর মাজার অবস্থিত। সমাধি সৌধগুলোর মধ্যে নিঃসন্দেহে এটি সর্বাধিক গুরুত্বের অধিকারী। এ দরগার প্রবেশ পথের ওপরে একটি শিলালিপি রয়েছে যাতে উৎর্কীণ করা আছে যে, খালিস খান ৯১১ হিজরীতে (১৫০৫ খ্রিষ্টাব্দ) সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের আমলে এই পবিত্র ইমরাত নির্মাণ করেন। এখানকার মসজিদটি ১৫৩১ খ্রিষ্টাব্দে তৈরি। প্রতি বছর জিলক্বদ মাসের ১৯ ও ২০ তারিখে পালন করা হয় হজরত শাহ্ জালাল (র.)-এর ওরস মোবারক। এ ছাড়াও সারা বছর ধরে দেশ বিদেশের পর্যটকগণ এ মাজার পরিদর্শনে আসেন এবং জাতিধর্মবর্ণনির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষ তাদের হৃদয় নিংড়ানো ভক্তি ও শ্রদ্ধা এই মহামানবের পুণ্য স্মৃতির উদ্দেশ্যে উজাড় করে দিয়ে নিজেদের কৃতার্থ মনে করেন। অনেক মনোবাঞ্ছা পূরণের উদ্দেশ্যে নিবেদন করেন মানত ও দান ইত্যাদি।

 

২। হজরত শাহ্ পরাণ (র.)-এর মসজিদ ও দরগাহ্ :

 

তাপসকূল শিরোমণি হজরত শাহ্ পরাণ (র.) শায়িত আছেন সিলেটের খাদিম পাড়ায়। সিলেট শহরের প্রায় ৮ কি: মি: পূর্ব দিকে সিলেট-তামাবিল সড়ক থেকে প্রায় ০.৩  কি: মি:   ভিতরে     সু-উচ্চ ও মনোরম টিলায় অবস্থিত হজরত শাহ্ পরাণ (র.)-এর মসজিদ ও দরগাহ্। মসজিদের পূর্ব দিকে রয়েছে সমাধিটি।

শাহ্ পরাণ মসজিদটি আয়তকার তিন গম্বুজবিশিষ্ট এবং এর দেয়াল চার ফুট চওড়া, মসজিদটির বহির্ভাগে চার কোণে চারটি অর্ধগোলাকৃতির পার্শ্ব বুরুজ রয়েছে। এ মসজিদটির শিলালিপি ভিত্তিক নির্মাণকাল পাওয়া যায়নি। তবে সপ্তদশ শতাব্দীতে এটি নির্মিত বলে অনুমিত। অতিসম্প্রতি জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর নির্দেশনায় মহিলাদের জন্য নির্মিত হয়েছে ‘মহিলা এবাদতখানা’।

 

৩। শাহী ঈদগাহ্ :

 

সিলেট শহরের  উত্তর -পূর্ব  প্রান্তে পাহাড়ের কোল ঘেষে অবস্থিত ঐতিহাসিক  শাহী  ঈদগাহ্ মাঠ। ঈদগাহ্ প্রাঙ্গনের চারিদিক প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত। এটি সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ্ মাঠ। সপ্তদশ শতাব্দীতে নির্মিত এটি সিলেটের প্রাচীন ঐতিহ্যের এক নিদর্শন। সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে তদানীন্তন সিলেটের ফৌজদার ফরহাদ খাঁর উদ্যোগে এটি নির্মিত হয়। ঈদগাহে রয়েছে ২২টি সিঁড়ি।

 

৪। শাহ্ আবু তোরাবের মসজিদ :

 

এটি সিলেট জেলখানার দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। শাহ্ আবু তোরাব ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে এটি নির্মাণ করেন। মসজিদটি একটি বর্গাকার চত্বরের ওপর স্থাপিত এবং তিন গম্বুজ বিশিষ্ট।

 

৫। ক্বীন ব্রীজ :

 

সিলেট  মিউনিসিপ্যালিটি  কমিটি  ১৮৮৫ সালে গঠিত হয়। এ কমিটির  সুপারিশের  ভিত্তিতে ১৯৩৭ সালে সুরমা নদীর উপর লোহার সেতু তৈরি করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৫৬ লক্ষ টাকা। আসাম প্রদেশের তৎকালীন গভর্ণর মাইকেল ক্বীন-এর নাম অনুসারে এ সেতুর নামকরণ করা হয় ক্বীন ব্রীজ।

 

৬। আমির ফরহাদ খানের সেতু :

 

সিলেট শহরের পূর্ব প্রান্তে গোয়ালিছড়া নামক স্থানে প্রধান সড়কের ওপরে ফরহাদ খানের সেতুটি অবস্থিত। এ পাকা সেতুটি একটি খিলানের উপর নির্মিত। ব্রিটিশ আমলে এটি সংস্কার করা হয়।

 

৭। নিম্বার্ক আশ্রম :

 

এটি শহরের মির্জাজাঙ্গালে অবস্থিত। এটি সিলেটের একটি প্রাচীন ও সুপরিচিত ধর্মীয় কেন্দ্র।

 

৮। আলী আমজাদের ঘড়ি :

 

জমিদার আলী আমজাদের ঘড়ি। এটি ১৮৯৮ সালে কুলাউড়ার জমিদার আলী আমজাদ খান কর্তৃক বর্তমান সার্কিট হাউজ ও ক্বীন ব্রীজের পাশে নির্মিত হয়। সিলেট আগমন উপলক্ষে এটি নির্মিত হয়।

 

৯। শ্রী শ্রী মহাপ্রভূ জিউর আখড়া :

 

এটি লামাবাজারে অবস্থিত। মন্দিরের আদি ভবনটি বর্তমানে বিদ্যমান নেই। এটি অষ্টাদশ শতাব্দীতে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়।

 

১০। যুগল টিলা :

 

যুগল টিলা এটি সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এ ধর্মীয় কেন্দ্রটি চারদিকে পরিখা বেষ্টিত একটি টিলার উপর অবস্থিত। কেন্দ্রীয় মন্দির ভবনটিতে পৌঁছাতে বহু ধাপযুক্ত সিঁড়িপথ দিয়ে অগ্রসর হতে হয়।

 

১১। থ্যাকারে বাংলো :

 

সিলেটের প্রথম কালেক্টর উইলিয়াম ম্যাকপীস থ্যাকারের বসবাসের উদ্দেশ্যে টিলার উপর এ বাংলো তৈরি করা হয় ১৭৭২-৭৫ সালের দিকে। যে টিলার উপর বাংলোটি অবস্থিত তাকে থ্যাকারে টিলা বলে। এটি বর্তমানে এম. সি কলেজের অধ্যক্ষের বাসভবন হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 

১২। ওসমানী স্মৃতি জাদুঘর :

 

১৯৮৭ সনে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি বঙ্গবীর জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের শাখা হিসেবে এটি চালু আছে। এ জাদুঘরটিতে তিনটি গ্যালারী রয়েছে, যেখানে জেনারেল ওসমানীর জামা-কাপড়, আসবাব-পত্র, তৈজষ-পত্র, ছবি, বই, পদক, প্রতিকৃতি, মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত ম্যাপ এবং তাঁর জীবন ও কর্মকাণ্ডের স্মৃতি বিজড়িত অন্যান্য নিদর্শনাদি প্রদর্শিত হয়েছে।

 

১৩। হজরত মানিক পীর (র.) টিলা :

 

হযরত শাহ্ জালাল (র.)-এর সঙ্গীয় ৩৬০ জন আউলিয়ার, পীরের অন্যতম ছিলেন হজরত মানিকপীর। নগরীর কুমারপাড়া ও নয়াসড়কের ক্রসিং-এর মাঝামাঝি অবস্থানে একটি অনুচ্চটিলার উপর হজরত মানিক পীর (র.)-এর মাজার শরীফ অবস্থিত। তাঁর নামানুসারে এ টিলাটি “মানিকপীর টিলা” নামে বহুল পরিচিত। বর্তমানে গোরস্থান হিসাবে ব্যবহৃত এ টিলাটি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে। সাম্প্রতিককালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব এম. সাইফুর রহমানের নির্দেশনায় হজরত শাহ্ জালাল (র.) ও হজরত শাহ্ পরাণ (র.)-এর মাজারের ন্যায় এ মাজারেও ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। জেলা পরিষদ, সিলেট-এর অর্থায়নে ও তত্ত্বাবধানে এ মাজারের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

 

১৪। হজরত সৈয়দ চাশনী পীর (র.) এর মাজার :

 

ইয়েমেনে জন্মগ্রহণকারী হজরত শাহ্ জালাল (র.) ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে  মক্কা হতে এ ভূ-খন্ডে আসেন। তাঁর সঙ্গী ছিলেন ৩৬০ জন আউলিয়া পীর। তাঁদের অন্যতম হলেন এই হজরত সৈয়দ চাশনী পীর (র.)। তিনি ভূ-তত্ত্ববিদ এবং মৃত্তিকাবিজ্ঞানী হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। কথিত আছে যে, হজরত শাহ্ জালাল (র.) মক্কা হতে আসার সময় তাঁর মামা ও দীক্ষা গুরু হজরত সৈয়দ আহ্মদ কবির (র.) তাঁকে এক মুঠো মাটি দিয়ে যে এলাকার মাটির সাথে এ মাটি মিল পাওয়া যাবে সেখানে অবস্থান করে ইসলাম প্রচার করার জন্য বলেছিলেন। এ মাটি তিনি সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন। হজরত চাশনী পীর (র.) পরীক্ষা করে সিলেটের এলাকার মাটির সাথে উক্ত মাটির সামঞ্জস্য পেয়েছিলেন। এর ফলে তাঁরা এ অঞ্চলে অবস্থান করে ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।

০৩

সদর উপজেলার অবস্থান, সীমানা এবং

 

বিভাগ ও রাজধানীর সংগে যোগাযোগ

 

ব্যবস্থা ।

 

সিলেট সদর উপজেলা সুরমা নদীর উভয় পাড়ে বিস্তৃত ভূ-ভাগ নিয়ে গঠিত। উপজেলা সদর দপ্তর সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে সিলেট-তামাবিল সড়কের পার্শ্বে এবং হজরত শাহ্ পরাণ (র.) মাজারের বিপরীত দিকে অবস্থিত। এই উপজেলা পূর্বে জৈন্তাপুর ও গোলাপগঞ্জ, পশ্চিমে বিশ্বনাথ ও ছাতক, উত্তরে কোম্পানিগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট এবং দক্ষিণে বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা দ্বারা বেষ্টিত। জেলা সদর হতে প্রায় ৯ কি: মি: এবং ঢাকার সাথে এর দূরত্ব ২৭৪ কি: মি:। ঢাকা থেকে আকাশ পথ, সড়ক পথ এবং ট্রেনযোগে এখানে যাতায়াতের সুব্যবস্থা রয়েছে। জেলা সদর এবং বিভাগীয় সদর দপ্তর থেকেও সড়ক পথে এর যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ ভাল। এছাড়া এ বিভাগের অপর ৩টি জেলা সদরের মধ্যে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে রেল ও সড়ক পথে এবং সুনামগঞ্জে সড়কপথে সহজেই যাতায়াত করা যায়।

 

০৪

পোস্টাল ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা

সদর উপজেলায় মোট ৪০টি পোস্ট অফিস আছে। টেলিযোগাযোগ এক্সচেঞ্জ আছে ৪টি। এক্সচেঞ্জগুলো স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল টেলিফোনে রূপান্তরিত করা হয়েছে। গ্রামীণ ফোন, একটেল, সিটিসেল, বাংলালিংক, সেবা ইত্যাদি সেল ফোন সার্ভিসও চালু আছে।

 

০৫

উপজেলার সাথে ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে

 

যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দূরত্ব

ইউনিয়নেরনাম

উপজেলাসদরদপ্তরহতে

যোগাযোগের মাধ্যম

 

জালালাবাদ

২৬কি: মি:

বাসওপদব্রজে

হাটখোলা

২৪কি: মি:

বাস, টেম্পুওপদব্রজে

 

খাদিমনগর

 

১৯কি: মি:

বাস, টেম্পুওপদব্রজে

খাদিমপাড়া 

০১কি: মি:

বাস, টেম্পুওপদব্রজে

 

টুলটিকর

০৬কি:

 

টেম্পুওপদব্রজে

টুকেরবাজার

১৯কি: মি:

 

টেম্পুওবাস

মোগলগাঁও

২৪কি: মি:

বাস, টেম্পুওপদব্রজে

 

কান্দিগাঁও

২০কি: মি:

বাস, টেম্পুওপদব্রজে

০৬

ভূ-প্রকৃতি

সিলেট সদর উপজেলার উত্তর পূর্ব অংশ জুড়ে মাঝারী উঁচু পাহাড় রয়েছে। পাহাড়গুলো খাড়া থেকে অধিক খাড়া এবং ৩০% থেকে ৭০% ঢালু। বর্ষাকালে কিছু অংশ প্লাবিত হয়। তবে পাহাড়তলী পলল ভূমি এবং দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী খাদগুলো অগভীর থেকে গভীরভাবে প্লাবিত হয়ে থাকে। সুরমা, কুশিয়ারা পলল ভূমিতে উচঁ জমি থেকে শুরু করে ৪ থেকে ৫ মিটার গভীর প্লাবিত বিল ও হাওড় রয়েছে। এই উপজেলার ভূ-প্রকৃতি প্রধানত ৩টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো নিুরূপ :

অঞ্চলভিত্তিক ভূমির শ্রেণী   আয়তন হেক্টর

 

১             পাহাড়ী অঞ্চল                                ৬,৭৭৭ হেক্টর

২             পাহাড়তলীর পলল ভূমি                  ৪,২৯৪ হেক্টর

৩            সুরমা, কুশিয়ারা পলল ভূমি                ২৮,৮৪৫ হেক্টর

৪             বসতবাড়ী                              ৮,৯০১ হেক্টর

৫             পুকুর জলাশয়                        ১,১৭৫ হেক্টর

৬             নদী                                         ৯০৮ হেক্টর

 

০৭

আবহাওয়া ও জলবায়ু

সিলেটের আবহাওয়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় একটু ভিন্ন প্রকৃতির। এটি দেশের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল অঞ্চল। পৃথিবীর সবচেয়ে বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা আসামের চেরাপুঞ্জি-এর সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় সিলেটে রেকর্ডকৃত বৃষ্টিপাত দেশের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে অনেক বেশি। এর তিন দিকে পাহাড় থাকায় বর্ষাকালে আকাশে মেঘ জমলেই ঝরঝরিয়ে বৃষ্টি পড়তে থাকে। কখনো কখনো একটানা অবিরাম বৃষ্টিপাত হয়।

 

০৮

তাপমাত্রা

২৬.০৭ সেলসিয়াস (গড়)। আদ্র আবহাওয়া ও বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়

০৯

মোট জমির পরিমাণ ও শ্রেণী :

সদর উপজেলা মোট জমির পরিমাণ              : ৩০,৫৭০ হেক্টর।

মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ                : ১৩,৯৭২ হেক্টর।

বর্তমান অবাদকৃত জমি                         : ১৩,৬৭০ হেক্টর।

এক ফসলী জমির পরিমাণ                      : ৪৭২০ হেক্টর

দুই ফসলী জমির পরিমাণ                      : ৮১০০ হেক্টর

তিন ফসলী জমির পরিমাণ                    : ২৩৪৭০ হেক্টর

মোট ফসলী জমির পরিমাণ                    : ২৩৪৭০ হেক্টর

চাষ যোগ্য পতিত জমি                        : ২৯৫ হেক্টর

স্থায়ী পতিত জমি                             : ১৬৫৯৮ হেক্টর

চাষের অনুপযোগী জমি                       : ৬১১৪ হেক্টর

বনাঞ্চল                                      : ৭৩৪ হেক্টর

অগভীর নলকূপ                              : ০৩ টি

শক্তিচালিত পাম্প                            : ৬৩৬ টি

ফসলের নিবিড়তা                           : ১৭১%

 

১০

মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্য

উপজেলার অধিকাংশ জমি দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ। তবে পাহাড়ী এলাকায় এঁটেল বা এটল দোআঁশ মাটির প্রাধান্য লক্ষ করা যায়। মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় উঁচু জমিতে ফসল কম হয়। তবে নীচু শ্রেণীর জমিতে প্রচুর ফসল উৎপন্ন হয়ে থাকে

১১

পানি সম্পদ

সরকারি পুকুরের সংখ্যা : ৬,৭০৩টি (আয়তন : ৪১৮.৬৭ হেক্টর)

সরকারি জলমহালের সংখ্যা : ২০ একরের উর্ধে : ৪৭টি এবং ২০ একরের নীচে ৪৬টি

তা’ছাড়া পানির অন্যান্য উৎসের মধ্যে নদী, খাল, বিল ইত্যাদি রয়েছে। সুরমা, বাসিয়া ও চেঙ্গেরখাল এখানকার প্রধান প্রধান নদী, খালের অন্যতম।

১২

বনাঞ্চল

ছোট ছোট টিলার উপর অবস্থিত কিছু ঝোঁপ জঙ্গল এবং সুপারী, নারিকেল ও অন্যান্য ফল-মূলের বাগান ব্যতীত এখানে বৃহৎ কোন বনাঞ্চল নেই। তবে এয়ারপোর্ট রোডের পার্শ্বে আলীবাহার চা বাগান এলাকায় টিলার উপর, শহরের উপকণ্ঠে খাদিমনগর এবং আলুতল এলাকায় প্রায় ৬০০ একর পরিমাণ কৃত্রিম বন গড়ে তোলা হয়েছে। এলাকায় সামাজিক বনায়ন কার্যক্রমের আওতায় কিছুটা কৃত্রিম বাগান গড়ে তোলা হয়েছে।

১৩

জনসংখ্যা, পরিবার পরিকল্পনা

বর্তমান জনসংখ্যা  :     ২০১১ সনের আদমশুমারীর তথ্য অনুযায়ী

                                জনসংখ্যা ৩,৪৯,২৬৬ জন।

                                 পুরুষ : ১৮০৪৩৫ জন এবং মহিলা ১৬৮৮৩১ জন।                                

১৪

লিঙ্গভিত্তিক ভোটার বিন্যাস

                মোট ভোটার সংখ্যা : ১,৯১,২২৮ জন।

                পুরুষ ভোটার : ৯৮,৭২৪ জন।

                মহিলা ভোটার : ৯২,৫২৪ জন।

 

১৫

শিশু মৃত্যুর হার

শিশু মৃত্যুর হার : ৭%

১৬

নারী শিক্ষা

নারী শিক্ষা : ৩০%

শ্রমজীবী নারী : ০৩%

এবং যৌতুক এবং বাল্য বিবাহের হার : ২%।

১৭

কর্মজীবী ও বেকার জনসংখ্যার হার

কর্মজীবীর হার : ৬০%

 বেকার : ৪০%

১৮

ভূমিহীন, ভিক্ষুক, পঙ্গু জনসংখ্যার বিন্যাস

ভূমিহীন পরিবার সংখ্যা : ৫,৬৮৪ জন।

ভিক্ষুকের সংখ্যা : ১৮৮০ জন।

মোট কর্মক্ষম জনসংখ্যা : ৩,৮৭,৬১৬ জন।

মোট কৃষি মজুরের সংখ্যা : ২১,২২০ জন।

ভিজিডি কার্ডধারীর সংখ্যা : ১,৭০০ জন। (মহিলা)

১৯

কৃষি এবং অ-কৃষিক্ষেত্রে ন্যূনতম মজুরি

অকৃষি মজুরি : ১৫০ টাকা (গড়ে)

 কৃষি মজুরি : ১২০ টাকা (গড়ে)

২০

শিক্ষা এবং ক্রীড়া

সার্বিক সাক্ষরতার হার : ৫৯.৪৭%

২১

প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র

মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়      ৩৯১ টি

২২

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

১২২ টি

২৩

ইবতেদায়ী মাদ্রাসা (স্বতন্ত্র) 

ইবতেদায়ী মাদ্রাসা (স্বতন্ত্র)  ১৩ টি

২৪

দাখিল মাদ্রাসা

দাখিল মাদ্রাসা (ইবতেদায়ী সংযুক্ত)   ২৪ টি

২৫

কিন্ডারগার্টেন

কিন্ডারগার্টেন       ২৫ টি

২৬

এনজিও পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়

এনজিও পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়             ২৯ টি

২৭

প্রাইমারী ট্রেনিং ইন্সটিটিউট

প্রাইমারী ট্রেনিং ইন্সটিটিউট                ১ টি

২৮

নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়       ৭ টি

৩০

মাধ্যমিক বিদ্যালয়              

মাধ্যমিক বিদ্যালয়               ৫৯

৩১

কলেজিয়েট স্কুল (একাদশ-দ্বাদশ)

কলেজিয়েট স্কুল (একাদশ-দ্বাদশ) ৪ টি

৩২

কলেজ    

কলেজ     ১১ টি

৩৩

অন্যান্য (বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কজেল, আইন কলেজ, সরকারি ভেটেরিনারী কলেজ ইত্যাদি         

অন্যান্য (বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কজেল, আইন কলেজ, সরকারি ভেটেরিনারী কলেজ ইত্যাদি             ১৪ টি

 

৩৪

পাবলিক লাইব্রেরীর সংখ্যা

পাবলিক লাইব্রেরীর সংখ্যা : ৪টি

৩৫

বুক শপের সংখ্যা

বুক শপের সংখ্যা : ২৩৪টি

৩৬

সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটের সংখ্যা

সরকারি : ৪টি

বেসরকারি : ১টি

৩৭

কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের সংখ্যা

 সরকারি : ২টি

 বেসরকারি : ১০৪টি

৩৮

ক্রীড়া সংঘ (ক্লাব) ও ফুটবল খেলার মাঠের সংখ্যা

ফুটবল খেলার মাঠ : ৩৭টি

৩৯

বিমানবন্দর ও স্থলবন্দর

সিলেট সদর উপজেলায় ১টি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ও ১টি হেলিপ্যাড আছে। তবে কোন স্থলবন্দর নেই।

৪০

পরিবেশ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ

আর্সেনিকের প্রভাব : সিলেট সদর উপজেলায় সরকারিভাবে মোট ৪,৯৮২টি নলকূপ রয়েছে। তন্মধ্যে ৪,৬৪৫টি চালু রয়েছে এবং স্থায়ীভাবে অকেজো ৩৩৫টি নলকূপ রয়েছে। ২টি ইউনিয়নে (মোগলাবাজার ও দাউদপুর) আর্সেনিক প্রবণতা রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় যে, ইটের ভাটায় কম উচ্চতা সম্পন্ন চিমনী ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ উপজেলায় তেমন কোন বৃহৎ শিল্প কারখানা গড়ে উঠেনি। সুতরাং শিল্প কারখানা ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ফলে পরিবেশগত তেমন কোন সমস্যা নেই।

কৃষকরা কৃষি কাজে রাসায়নিক সার কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ভূ-পৃষ্ঠের পানি দূষিত হচ্ছে। তবে ব্যাপকভাবে পানি দূষণের প্রভাব দেখা যায় না।

পাহাড়ী ঢল ও নোংরা আবর্জনা ইত্যাদির কারণে পানি অনেকটা আর্সেনিকযুক্ত এবং দূষিত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেট কর্তৃক সিলেট সদর উপজেলার বেশ কিছু নলকূপের পানির আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় মোট ৯৩৫টি টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক এর অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে এবং সেগুলো ‘সীল’ করে দেয়া হয়েছে।

 

৪১

টিউবওয়েলের সংখ্যা

টিউবওয়েলের মোট সংখ্যা : ১৭,৬৫৫ টি

সরকারি উদ্যোগে স্থাপিত : ৪,৯৮২টি

বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত : ১২,৬৭৩টি

৪২

শিল্প ও বাণিজ্য

সিলেট বেশ ক’টি চা বাগানসহ ছোট ছোট শিল্প কারখানা আছে। ভারী শিল্প কারখানাগুলো জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে স্থাপিত হওয়ায় সিলেট সদরে কোন বৃহৎ আকারের শিল্প কারখানা নেই। তবে সদর উপজেলা কমপ্লেক্সের অদূরে খাদিমপাড়ায় “খাদিম সিরামিক্স” ও ইসলামপুরে একটি টেক্সটাইল মিলস্ (সিলেট টেক্সটাইল মিল্স) রয়েছে। এছাড়া রয়েছে দু’টি বিসিক শিল্প নগরী।

৪৩

পর্যটন শিল্প

সিলেট সদর উপজেলার বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে সিলেট পর্যটন মোটেল, ওসমানী শিশু উদ্যান এবং জাকারিয়া সিটি বিনোদন পার্ক ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরো বেশ ক’টি বিনোদন পার্ক গড়ে উঠেছে।

৪৩

 সিলেট পর্যটন মোটেল

 

সিলেট শহর থেকে ৭ কি: মি: দূরে অবস্থিত পর্যটন মোটেল। ১৯৯৩ সালে ওসমানী বিমান বন্দর থেকে ১ কি: মি: দূরে সড়কের পাশে সু-উচ্চ টিলার উপর পর্যটন মোটেলটি তৈরী হয়। এতে ছেলে মেয়েদের খেলাধুলার জন্য দোলনা, পাখি দেখা এবং দুটো অবজারভেশন টাওয়ার আছে। টিলার ওপর পিকনিক স্পট, সুন্দর ফুলের বাগান ও সুগন্ধা নামে একটি রেস্তোরা আছে। বিকেলে এখান থেকে সূর্যাস্ত দেখা যায়। মোটেলের ভেতর টি-শার্ট, মণিপুরী চাদর, বাঁশ, বেত ও কুটির শিল্পের জিনিসপত্র বিক্রি করা হয়।

৪৪

হাট-বাজারের সংখ্যা

সিলেট সদর উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে ছোট বড় ৪২টি হাট-বাজার রয়েছে। তন্মধ্যে স্থায়ী দোকানঘর ১,২৬০টি। অস্থায়ী দোকানঘর ১,৫০০টি ।

৪৫

জলমহাল

মোট ৪৬টি বদ্ধ জলমহাল (২০ একরে নীচে) ইজারার মাধ্যমে ৭,৫৪,১৭৮/- টাকা আয় হয়েছে যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উপজেলার উন্নয়ন কাজে ব্যয় হচ্ছে।

৪৬

উপজেলা কমপ্লেক্স পরিচিতি

জেলা প্রশাসকের  কার্যালয়, সিলেট থেকে প্রায়  ৯ কিলোমিটার দূরে সিলেট তামাবিল  মহাসড়ক  সংলগ্ন হজরত শাহ্ পরাণ (র.)-এর মাজারের উত্তর পাশে সদর উপজেলা কমপ্লেক্স অবস্থিত। অফিস এবং আবাসিক এলাকাসহ এর মোট আয়তন  প্রায় ১১.৫০ একর।

কমপ্লেক্সে ছোট বড় মোট ৫টি পুকুর আছে। এ সব পুকুরে পরিকল্পিত উপায়ে  বিভিন্ন  ধরনের মাছ চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া কমপ্লেক্সের ভিতরে বিভিন্ন জাতের ছোট বড় ৭১৫টি গাছ আছে। ১০০টি  গাছের সমন্বয়ে  একটি  আম্রপলি মাতৃউদ্যান  আছে। সদ্য  প্রাক্তন  উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আব্দুল নূর-এর উদ্যোগে ২০০৩ সনের সেপ্টেম্বর মাসে এই বাগানটি সৃজিত হয়। কমপ্লেক্সে যে আবাদযোগ্য জমি আছে সেখানে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমী শাক সবজির চাষ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ২০০৪ সনের মাসে একটি প্রদর্শনী সবজি বাগান, খামার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সদ্য প্রাক্তন জেলা প্রশাসক জনাব মুহাম্মদ হারুন চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় ক্যাম্পাসে একটি প্রদর্শনী পোলট্রি খামার স্থাপন করা হয়েছে।

উপজেলায়  কর্মরত কর্মকর্তাদের  দাপ্তরিক  কাজের পাশাপাশি  সমাজকল্যাণমূলক  কর্মকান্ড  যেমন : বৃক্ষরোপণ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানার ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, ধূমপান বিরোধী প্রচারণা, বিভিন্ন

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ দুঃস্থ লোকজনের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে মিথস্ক্রিয়া ও বিনোদনের সুযোগ ক্ষেত্র তৈরীর লক্ষ্যকে সামনে রেখে ২০০৪ সনের ১লা এপ্রিল গঠন করা হয়েছে অফিসার্স ক্লাব। অফিসার্স ক্লাবটি সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত হয়েছে। এর নিবন্ধন নং সিল-৯৭৬/২০০৪ ইং তারিখ ৩০.১২.০৪ খ্রিষ্টাব্দ।

বর্তমান  উপজেলা  নির্বাহী  অফিসারের উদ্যোগে জেলা পরিষদ,  উপজেলা পরিষদ,  কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি এবং স্থানীয় কিছুসংখ্যক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় অতি সম্প্রতি একটি সুদৃশ্য মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। দো’তলা ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত এ মসজিদের আয়তন ১,৮৭৫ বর্গফুট।

উপজেলা কমপ্লেক্সে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের  সন্তানদের খেলাধুলার জন্য একটি বড় আকারের খেলার মাঠও এ কমপ্লেক্সে রয়েছে।

৪৭

উপজেলা বিভিন্ন সরকারি অফিসের নাম ও অবস্থান

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়             উ

পজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

 উপজেলা ভূমি অফিস          

তোপখানা (কোতয়ালী থানা সংলগ্ন)।

উপজেলা কৃষি অফিস          

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

 উপজেলা মৎস্য অফিস         

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

উপজেলা পশু সম্পদ অফিস               

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অফিস       

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস      

 জিন্দাবাজার, সিলেট।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস     

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

উপজেলা শিক্ষা অফিস        

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

উপজেলা সমবায় অফিস    

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য অফিস   

তোপখানা (কোতয়ালী থানা সংলগ্ন)।

উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস             

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস      

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস                              

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

 উপজেলা সমাজসেবা অফিস              

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস  

পুরানলেন, জিন্দাবাজার, সিলেট।

উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিস             

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স,

খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

উপজেলা শিক্ষা প্রকৌশল অফিস        

তালতলা, সিলেট।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস       

তালতলা, সিলেট।

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিস              

মিরাবাজার, সিলেট।

উপজেলা পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প অফিস           

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

উপজেলা নির্বাচন অফিস                   

উপজেলা প্রশাসন কমপ্লেক্স, খাদিমনগর (শাহ্ পরাণ গেইট)।

পুলিশ স্টেশন (কোতয়ালী থানা)       

তোপখানা, সিলেট।

পুলিশ স্টেশন (জালালাবাদ থানা)     

বাদাঘাট তেমুখী পয়েন্ট সংলগ্ন

পুলিশ স্টেশন (এয়ারপোর্ট থানা)       

খাদিমনগর, সিলেট।

পুলিশ স্টেশন (শাহ্পরান থানা)         

শাহ্পরান বাইপাস রোড, খাদিমপাড়া, সিলেট।

৪৮

সিলেট সদর উপজেলায় বসবাসরত নৃ-তাত্ত্বিক (আদিবাসী) জনগোষ্ঠীর তথ্যাদি

উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস হতে প্রাপ্ত তথ্য মতে, সিলেট সদর উপজেলায় মোট আদিবাসী জনসংখ্যা হচ্ছে ৮,৪৮০ জন। নিম্নে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীসমূহের গোষ্ঠীওয়ারী জনসংখ্যা পৃথকভাবে প্রদর্শন করা হলো :

 

       সম্প্রদায়ের নাম                                                    জনসংখ্যা

 

  মণিপুরী (ক্ষৈত্রীয়) সম্প্রদায়                                         ৩,৩৩৮ জন

  মণিপুরী (বিঞ্চুপ্রিয়া) সম্প্রদায়                                       ৮১২ জন

      পাত্র সম্প্রদায়                                                       ৪,২৮০ জন

     লুসাই সম্প্রদায়                                                      ৫০ জন

             সর্বমোট                                                      ৮,৪৮০ জন